আগস্ট মানে দেশ বাঁচানো আগস্ট গণমুক্তির আগস্ট হলো জিঞ্জির ভাঙা সব গোলামী চুক্তির আগস্ট বলে চিনে রাখুন দেশ বিরোধী শালারে বন্ধু রূপের শত্রুরা সব কোঁচড় তুলে পালারে আগস্ট মানে স্বৈরাচারীর প্রাণ বাঁচানো পালিয়ে মহিমান্বিত আগস্ট রাখো বুকের মাঝে জ্বালিয়ে।
আলোর কোলাহল / ফারুক ফরায়েজি
জীবন আঁধারে কেটেছে অনন্ত বছর নিত্য পেয়েছি যে দিগন্ত ছোঁয়া কহোর। জেনেছি, বেঁচে থাকে পিপীলিকা যেমন আলোর কোলাহলে পথচলাতে নিষিদ্ধ শহর। আমি আমাকে ভেঙেছি যত; গড়েছি ততবার দুর্গামূর্তির মত নিমজ্জিত হয়েছি হেলেনের গহীন যৌবনা সোপানে— অষ্টধাতুর খোলসে তাবিজ ভরে বাহুতে, কোমরে, গলায় ঝুলিয়ে রেখিছি বহুকাল চঞ্চল চপলা উদ্বিগ্ন মন করতে পরিনি বস। কত মসজিদ, মন্দির, গির্জায় গিয়েছি প্রভু নামাজ রোজা সব করেছি চিন্তায় সকল কর্ম তবে কি? মন আমার হবে না কভু; আমার পাপ পূর্ণ তোমার হাতে পূর্বেই ছিলো লেখা তবে কেন? মিছে এই জান্নাত জাহান্নাম স্বর্গ নরক খেলা একদিন নিভে যাবে জীবনের সব আলোর কোলাহল।
পরিক্রমা / আলম দীন
দেখো আমরা পেরিয়ে এসেছি তিনটি মানুষ-কাল ফুলের কোরক, বিকশিত দল পেরিয়ে এসেছি ফল ও ফসল সবুজ প্রান্তর। তোমার খুকিকালে বাঁধা কাল্পনিক স্বপ্নের সংসার মাথায় গামছা বেঁধে আমিও এক গেরস্ত বালক বিভিন্ন সদাইপাতি, ইঁদুরের গর্তের মিহিমাটির চিকন চাল কচুরিপানার ডাঁটার মোরগ, ইলশেগাছের ইলশে মাছ, এটা সেটা আরও কতো কী কলাপাতার ছাউনী দেয়া ঘরটা সারাই না বলে তোমার কতো অনুযোগ সাথে গয়নার দাবিও ছিল আমি অবশ্য ধানের ফলনের কথা বলেছিলাম, বেশি হলে অবশ্যই কিনে দেব। এসব হতো আমাদের খেলাধুলায়। তারপর তুমি কিশোরী হয়ে গেলে কিছুটা বদল আমারও একটা ঘোর ঘোর সময়ের কাছে স্বপ্ন স্বপ্ন অবয়ব ঘোরে, নয়ন রঙিন হয়, অজানা বোধের বাঁধে ফুটে উঠি বিভিন্ন গোলাপ শিহরণ জাগে। আহ্ এই তো জীবন! তারপর আমি তুমি আরও বদলে যাই। আমি বলিষ্ঠ যুবক, তুমিও যুবতী সাগরের ঢেউ আসে মনে অতি সন্তর্পণে আমরা শরীরি হই অমোঘ বাঁধনে বালক বেলার কথা মনে পড়ে আমাদের সেইসব সাংসারিক কাজ কেমন বদলে গেছে আমাদের দুজনেরই শরীর ফুটেছে। আমরা ফলাই ফসল, যত্ন দেই পরম আদরে। মনে পড়ে? শৈশব-সংসারে গাছের পাতার টাকা প্রচলিত ছিল- এখন কাগুজে- গাছ থেকে ছিঁড়ে নিয়ে চলে না যাকগে সেসব কথা তুমি নানি, আমি নানা এখন তো শরীরেও সেরকম পরশ লাগে না। যা-ই বলো নাতিরা বেশ হৃদয় কেড়েছে, কীরকম মায়ায় বেঁধেছে।
পরিচয় / কামরুন নাহার সাথী
সহসাই ধারালো শব্দের অর্থময় গুনগুন ঘুমেই কে যেন জিজ্ঞাসিল “নিজকে জানার তরসা আছে?” বছরপাঁচেক আগেই জানার দম্ভ— আনমনে কেটে গেছে তরবারি বৃথা আস্ফালনের বেবাকই ছদ্মবেশ— কাঁটাবন সয়ে ধরাধামে গ্রন্থে-পান্থে যা পেয়েছি, তা-ই দেবো অদৃষ্ট চরণে। মানুষজনের ক্ষোভ তিরস্কার পরোয়া করিনি ক্ষণিকের চমক পারেনি ছুঁয়ে যেতে এই দীর্ঘ সত্য জানি— ভূমিমূলে সুর তাল বাজে খুঁজে খুঁজে বহে বেলা, কেন তবে লক্ষ্যেভেদে নাচবো বানর সেজে নিভৃতে বন্দনা গেয়ে আগুন কি নেভে কভু অধম মরণে। অতৃপ্ত হৃদয়ে অন্ধকার ছুঁয়েও নিরন্তর জ্বলা যায় একান্ত একার অনুগত সকাল বিকাল রাতে তোমাদের পাশে বসে অনুভব করি পরিচয় আবশ্যিক— ভিড় নয়, আবশ্যিক পরিচয় ভিড় সয়— সেটাও তো নিরর্থক করুণার প্রীতি।
জীবন যেন ধূপের ধোয়ায়/ফারুক ফরায়জি
নিয়তির করাল গ্রাস,ভাগ্যের চৌকাঠ মাড়িয়ে নিরন্তর পথচলা যায়, বেঁচে থাকা যায় না। মৃত্যুলোক হতে আনা নিরানব্বই টা নীল পদ্মের চুপসে যাওয়া ডালপাতায় আঁকি ভাগ্যের বিচ্ছিন্ন রেখাপথ। জীবন্ত অন্ধকারে প্রায়শই মরে যাওয়া নিজ পাপাত্মার গন্ধ নেই, বারংবার; জলন্ত মমের সুতোয় বেঁধেছি জীবন দুরন্ত ষাড়ের মত ছুটেছি, দারিদ্র্যের হিম শিকল পড়া পায় উইপোকার বাসা বানানো এদেহের খোলস ছড়িয়েছি সভ্যতার জীর্ণ গুহায় জীবন যেন ধূপের ধোয়ায়। অতঃপর; মেঘ হওয়ার ইচ্ছা রাখি! ভারি বর্ষণে বুকের ভিতর জ্বলা অশান্ত আগুন অন্তত শান্ত থাকবে।